বায়োইনফরমেটিক্সের ব্যবহারে ক্ষেত্রগুলি হলো--

i. জৈব প্রযুক্তি

ii. জীবাণু অস্ত্র তৈরি

iii. মহাকাশ গবেষণা

নিচের কোনটি সঠিক?

Updated: 1 year ago
  • ক
    i ও ii
  • খ
    i ও iii
  • গ
    ii ও iii
  • ঘ
    i, ii, ও ii
4.7k
ব্যাখ্যাঃ

বায়োইনফরমেটিক্স হলো জীববিজ্ঞানের ডেটা বিশ্লেষণ, সংরক্ষণ এবং ব্যাখ্যার জন্য কম্পিউটার বিজ্ঞান ও পরিসংখ্যানিক পদ্ধতির প্রয়োগ। এটি মূলত জীববিজ্ঞান, কম্পিউটার বিজ্ঞান, তথ্য প্রযুক্তি এবং গণিতের সমন্বয়ে গঠিত একটি আন্তঃবিষয়ক ক্ষেত্র। এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো বৃহৎ জৈবিক ডেটা (যেমন জিনোম সিকোয়েন্স, প্রোটিন স্ট্রাকচার) থেকে অর্থপূর্ণ তথ্য নিষ্কাশন করা এবং নতুন জৈবিক আবিষ্কার ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নকে সহজ করা।

বায়োইনফরমেটিক্সের ব্যবহারের ক্ষেত্রগুলি নিচে আলোচনা করা হলো:

        
  •         i. জৈব প্রযুক্তি (Biotechnology): বায়োইনফরমেটিক্স জৈব প্রযুক্তির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি ঔষধ আবিষ্কার ও নকশা (drug discovery and design), ভ্যাকসিন তৈরি, জিনোম সিকোয়েন্সিং ডেটা বিশ্লেষণ, প্রোটিন গঠন ও কার্যকারিতা ভবিষ্যদ্বাণী, জিন থেরাপি, কৃষি-জৈব প্রযুক্তি (যেমন উন্নত ফসলের জাত তৈরি) এবং শিল্প-জৈব প্রযুক্তি (যেমন এনজাইম ইঞ্জিনিয়ারিং) ইত্যাদি ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। এটি নতুন জৈব যৌগ শনাক্তকরণ, রোগের কারণ বিশ্লেষণ এবং রোগ নির্ণয়ে সহায়তা করে।     
  •     
  •         ii. জীবাণু অস্ত্র তৈরি (Biological weapon creation): এটি একটি বিতর্কিত ও অনৈতিক ক্ষেত্র হলেও, বায়োইনফরমেটিক্সের জ্ঞান ও সরঞ্জামগুলি জীবাণু অস্ত্র গবেষণায় এবং সম্ভাব্যভাবে তৈরিতে ব্যবহার করা যেতে পারে। বায়োইনফরমেটিক্স রোগ সৃষ্টিকারী অণুজীবের জিনোম বিশ্লেষণ, তাদের প্যাথোজেনিসিটি (রোগ সৃষ্টির ক্ষমতা) ও ভিরুলেন্স ফ্যাক্টর (রোগের তীব্রতা সৃষ্টিকারী উপাদান) সনাক্তকরণ এবং অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধের প্রক্রিয়া বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই জ্ঞানকে ইতিবাচক উদ্দেশ্যে (যেমন প্রতিষেধক তৈরি) ব্যবহার করা যায়, তেমনি নেতিবাচক উদ্দেশ্যে (যেমন আরও কার্যকর জীবাণু অস্ত্র তৈরি) ব্যবহার করারও তাত্ত্বিক সম্ভাবনা থাকে। তাই এটি প্রযুক্তির একটি 'দ্বৈত ব্যবহার' (dual-use) ক্ষেত্র।     
  •     
  •         iii. মহাকাশ গবেষণা (Space research): মহাকাশ গবেষণার সাথে বায়োইনফরমেটিক্সের সরাসরি এবং প্রধান ব্যবহারের ক্ষেত্র খুব কম। যদিও মহাকাশে টিকে থাকা অণুজীবের ডিএনএ বিশ্লেষণ বা মহাকাশে জীবনের অনুসন্ধান (astrobiology) সংক্রান্ত কিছু গবেষণায় বায়োইনফরমেটিক্স ডেটা বিশ্লেষণের জন্য ব্যবহৃত হতে পারে, তবে এটি এর মূল বা ব্যাপক ব্যবহারের ক্ষেত্রগুলির মধ্যে পড়ে না।     

উপরিউক্ত আলোচনা থেকে দেখা যায়, বায়োইনফরমেটিক্স মূলত জৈব প্রযুক্তি ক্ষেত্রে এবং এর দ্বৈত ব্যবহারের কারণে জীবাণু অস্ত্র তৈরির মতো সংবেদনশীল ক্ষেত্রেও এর প্রয়োগ থাকতে পারে।

Satt AI
Satt AI
3 months ago

বায়োইনফরমেটিক্স জীববিজ্ঞান, কম্পিউটার সায়েন্স, ইনফরমেশান ইঞ্জিনিয়ারিং, গণিত এবং পরিসংখ্যানের সমন্বয়ে গঠিত একটি বিষয়। মূলত এই বিষয়টির জন্ম হয়েছে জীববিজ্ঞানের বিশাল পরিমাণ ডেটা সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং সঠিকভাবে প্রক্রিয়া করে সেগুলো ব্যাখ্যা করার জন্য ।

বায়োইনফরমেটিক্সের প্রথম বড় সাফল্য এসেছিল যখন ১৩ বছরের দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর মানব জিনোম প্রথমবার সিকোয়েন্স করা হয়েছিল এবং সেই তথ্য অনলাইনে প্রকাশিত হয়েছিল যেন সারা পৃথিবীর বিজ্ঞানীরা সেটি পেতে পারে। এখন প্রযুক্তির উন্নয়নের কারণে কয়েক ঘণ্টার ভেতর পুরো মানব জিনোম সিকোয়েন্স করা সম্ভব। বায়োইনফরমেটিক্সের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হচ্ছে ক্যান্সারের উপর গবেষণা। ভবিষ্যতে প্রত্যেকটা মানুষের জন্য আলাদা আলাদাভাবে তার নিজস্ব ওষুধ ব্যবহৃত হবে, সেটিও সম্ভব হবে বায়োইনফরমেটিক্সের গবেষণার ফলে। প্রোটিনের গঠন বহুদিন থেকে বিজ্ঞানীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। । বায়োইনফরমেটিক্স এই ব্যাপারেও মূল গবেষণায় বড় ভূমিকা পালন করছে। বিজ্ঞানে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে বিবর্তন। এই বিবর্তনের রহস্য উন্মোচনে বায়োইনফরমেটিক্স অনেক বড় একটি ভূমিকা পালন করছে।

সাধারণত নিচের চারটি ভিন্ন ভিন্ন শাখার উপাদান ও কৌশলের সমন্বয়ে বায়োইনফরমেটিক্স পদ্ধতি কাজ করে থাকে :

১. আণবিক জীববিদ্যা ও মেডিসিন : ডেটা উৎস বিশ্লেষণের কাজ করে।

২. ডেটাবেজ : নিরাপদ ডেটা সংরক্ষণ ও ডেটা রিট্রিভ (Retrive) করা।

৩. প্রোগ্রাম : উপাত্ত বিশ্লেষণ অ্যালগরিদম যার মাধ্যমে বায়োইনফরমেটিক্স কঠোরভাবে সুনির্দিষ্ট করা হয়।

৪. গণিত ও পরিসংখ্যান : এর সাহায্যে সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়।

বায়োইনফরমেটিক্সের ব্যবহার

মূলত জৈবিক পদ্ধতি বিশ্লেষণ সম্পর্কে সম্যক এবং সঠিক ধারণা অর্জন করার ক্ষেত্রে বায়োইনফরমেটিক্স ব্যবহৃত হয়। আর এই জৈবিক তথ্য হিসাব-নিকাশ এবং এ সম্পর্কিত যাবতীয় সমস্যার সমাধানে কম্পিউটার প্রযুক্তির ব্যবহারও অপরিহার্য। তবে জিনোম সিকোয়েন্স, প্রোটিন সিকোয়েন্স ইত্যাদি গঠন উপাদানের ইলেকট্রনিক ডেটাবেজ গঠনে কম্পিউটার প্রযুক্তি বিশেষভাবে ব্যবহৃত হয়। এ ছাড়াও মলিকুলার মেডিসিন, জিনথেরাপি, ওষুধ তৈরিতে, বর্জ্য পরিষ্কারকরণে, জলবায়ু পরিবর্তন গবেষণায়, বিকল্প শক্তির উৎস সন্ধানে, জীবাণু অস্ত্র তৈরিতে, ডিএনএ ম্যাপিং ও অ্যানালাইসিস, জিন ফাইন্ডিং, প্রোটিনের মিথষ্ক্রিয়া পর্যবেক্ষণে বায়োইনফরমেটিক্স ব্যবহৃত হয়।

 

Related Question

View All
  • ক
    জেনেটিক ইঞ্জিনিয়াবিং
  • খ
    ন্যানোটেকনোলজি
  • গ
    বায়োইনফরমেটিক্স
  • ঘ
    আর্টিফিসিয়াল ইনটেলিজেন্স
821
Updated: 11 months ago
  • ক
    রোবটিক্স
  • খ
    বায়োমেট্রিক্স
  • গ
    বায়োইনফরমেট্রিক্স
  • ঘ
    জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং
1.8k
  • ক
    ডি.এন.এ ম্যাপিং ও অ্যানালাইসিস
  • খ
    ডি.এন.এ খণ্ড পৃথকীকরণ
  • গ
    ডি.এন.এ খণ্ড প্রতিস্থাপন
  • ঘ
    ডি.এন. এ তৈরি
1.8k
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র

Related Question

মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews

Question Analytics

মোট উত্তরদাতা

জন

সঠিক
ভুল
উত্তর নেই